ঝড়া পাতার গল্প - ০১
হালকা ঠান্ডা পড়েছে শহরে। সকাল বেলা ঘুম ভাঙতেই চায়না। কাথাটা আরেকটু টেনে ঘুম দেই সকালে। শীত পরেছে মতিঝিলেও। রাতে হালকা কুয়াশাও পরে। বাদশা থাকে কমলাপুর স্টেশনে। সারাদিন সিটি বাসে বাংলাদেশ প্রতিদিন আর ভোরের কাগজ বিক্রি করে। হরতাল না হলে দিনশেষে ৫০ টাকার মত পায়। এটাকায় দুইবেলা খাওয়া হয় কোনমতে। কালরাতে বেশ ঠান্ডা ছিল। স্টেশনের ছাউনি আছে বলে কুয়াশা পরেকিনা বোঝা যায়না। প্লাটফরমে বসার চেয়ারমতন যে তাক গুলো আছে সেগুলোতেই ঘুমায় বাদশা। একে বাইরের ঠান্ডা তারউপর সিমেন্টের ঠান্ডা। বুকটা বসে গেছে। বাদশার মনে পরে মা থাকতে ঠান্ডার সময় বুকে জড়িয়ে রাখত, সরিষার তেল মালিশ করে দিত সর্দি লাগলে। তখন ওরা কাওরানবাজার বস্তিতে থাকত। সেবার কিসের মারামারিতে মায়ের মাথায় চোট লাগল, হাসপাতালে যাওয়ার আগেই সব শেষ। গাঁজাখোর বাবা যে কোথায় গেল কে জানে! বড়বোনটা এক
রিকসাওয়ালার সাথে ভেগে গেল। বস্তিতে তাদের ছাউনিতে নতুন লোক আসল। তারপর থেকে বাদশা মিয়া স্টেশনেই থাকে। আগে বোতল কুড়াত, এখন পেপার বেচে। নাহ ঠান্ডা পরেই গেছে - ভাবে বাদশা। আজকেই একটা পলিথিন খুঁজতে হবে আর একটা মোটাদেখে কার্টুন আনতে হবে বিছানোর জন্য। আজকে দেরী হয়ে গেছে, আর পেপার দিবেনা। পলিথিন খুঁজতে বের হয় বাদশা। দশটার সময় ইত্তেফাক মোড়ে কয়েকজন কলেজের ছাত্রছাত্রী আসল। বাদশাকে ডেকে নাম জিজ্ঞেস করল, কোথায় থাকে- কি করে এইসব আরকি। তারপর কয়েকটা চকলেট আর একটা খেলনা গাড়ি দিল -
পল্টনে কাচঘেড়া দোকানে যেগুলা পাওয়া যায় ওইগুলা। আজকে নাকি শিশু দিবস। তারপর কয়েকটা ছবি তুলল ওর। বাদশা ভাবে কোথায় রাখবে খেলনা গাড়ি - ওরতো থাকার জায়গাই নাই। বস্তিতে ওদের একটা কাঠের বাক্স ছিল ওইটাতে কাপড় আর ওর খেলার জিনিস রাখত। চকলেট দেখে মনে পরে ক্ষুধা লেগেছ। পেট খালি থাকলে চকলেট যা পচা কলাও তা। তার চেয়ে খেলনা গাড়িটা আর চকলেট গুলিস্তানে বেচে দিয়ে একটা জেকেট কিনবে বাদশা। চকলেট গুলো দামি - দেখেই বোঝা যায় - ভাল দামে বিক্রি হবে। এরকম চকলেট খাওয়ার শখ বাদশার অনেকদিনের। নাহ - আগে একটা সেকেন্ডহ্যান্ড জেকেট কিনতে হবে। ঠান্ডা পরেছে। ওদের কথা কেও ভাবেনা -ও বোঝেনা চকলেট আর খেলনার চেয়ে একটা সোয়েটার /কম্বল ওদের অনেক বেশি দরকার, অনেক বেশি!
রিকসাওয়ালার সাথে ভেগে গেল। বস্তিতে তাদের ছাউনিতে নতুন লোক আসল। তারপর থেকে বাদশা মিয়া স্টেশনেই থাকে। আগে বোতল কুড়াত, এখন পেপার বেচে। নাহ ঠান্ডা পরেই গেছে - ভাবে বাদশা। আজকেই একটা পলিথিন খুঁজতে হবে আর একটা মোটাদেখে কার্টুন আনতে হবে বিছানোর জন্য। আজকে দেরী হয়ে গেছে, আর পেপার দিবেনা। পলিথিন খুঁজতে বের হয় বাদশা। দশটার সময় ইত্তেফাক মোড়ে কয়েকজন কলেজের ছাত্রছাত্রী আসল। বাদশাকে ডেকে নাম জিজ্ঞেস করল, কোথায় থাকে- কি করে এইসব আরকি। তারপর কয়েকটা চকলেট আর একটা খেলনা গাড়ি দিল -
পল্টনে কাচঘেড়া দোকানে যেগুলা পাওয়া যায় ওইগুলা। আজকে নাকি শিশু দিবস। তারপর কয়েকটা ছবি তুলল ওর। বাদশা ভাবে কোথায় রাখবে খেলনা গাড়ি - ওরতো থাকার জায়গাই নাই। বস্তিতে ওদের একটা কাঠের বাক্স ছিল ওইটাতে কাপড় আর ওর খেলার জিনিস রাখত। চকলেট দেখে মনে পরে ক্ষুধা লেগেছ। পেট খালি থাকলে চকলেট যা পচা কলাও তা। তার চেয়ে খেলনা গাড়িটা আর চকলেট গুলিস্তানে বেচে দিয়ে একটা জেকেট কিনবে বাদশা। চকলেট গুলো দামি - দেখেই বোঝা যায় - ভাল দামে বিক্রি হবে। এরকম চকলেট খাওয়ার শখ বাদশার অনেকদিনের। নাহ - আগে একটা সেকেন্ডহ্যান্ড জেকেট কিনতে হবে। ঠান্ডা পরেছে। ওদের কথা কেও ভাবেনা -ও বোঝেনা চকলেট আর খেলনার চেয়ে একটা সোয়েটার /কম্বল ওদের অনেক বেশি দরকার, অনেক বেশি!
নভেম্বর ২০, ২০১৩
Comments
Post a Comment