Posts

Showing posts from March, 2015

যন্ত্রমানব

স্পষ্ট মনে আছে - সেলুনে চুল কাটাতে নিয়ে যেত বাবা। বাসায় নরসুন্দর এনে চুল কাটানো যেত, কিন্তু তাতে আমার বেজায় আপত্তি ছিল। চিল্লাচিল্লি করে পুরো বাড়ি মাথায় তুলতাম এক চুল না কাটানোর জন্য। পরে অবশ্য 'বিকশো'র স্টিকার কিনে দিতে চাইলে অনেকটা অনন্যোপায় ভঙ্গিতেই সেলুনে গিয়ে চুল কাটাতে রাজি হতাম। ছোট মানুষ। সেলুনের চেয়ারে বসলে আয়নায় নিজেকে দেখা যায়না - চুল কাটতেও সমস্যা। তখন চেয়ারের দুই হাতলের উপর কাঠের তক্তা দিয়ে উচ্চতা বিষয়ক সমস্যার সমাধান করা হত আরকি! তারপর সেই তক্তার উপর বসে কিছুক্ষণ চেয়ার ঘোরাতাম। একসময় চুল কাটা শুরু হত। একটু পর আবার চিল্লাচিল্লি করে চুল কাটানো অফ । ১০ মিনিটের চকলেট বিরতিতে ননি দা হয়ত অন্য একজনের শেভ করতেন। মাঝে মাঝে এই গ্যাপে বাবাই চুল কাটাতেন। ননি দার পুরো নাম ননি গোপাল দাস। তার কাছেই নিয়মিত চুল কাটাতাম। অদ্ভুত ব্যাপার হল তিনি আমার বাবারও দাদা - আমারও দাদা। তো ননিদা বেশ বিরক্ত হত আমার চিল্লাচিল্লিতে। তবে এই বিরক্তির মধ্যেও একটা প্রশ্রয় ছিল। চুল কাটা শেষে ক্ষুর দিয়ে বর্ডার দেয়ার পার্টটাই ছিল সবচে' কঠিন। পানি দিয়ে ভিজিয়ে ক্ষুর টানলে গা শিউরে উঠত। আবার চিল্লাচিল্ল...

প্রতিধ্বনি

আমি শুকিয়ে যাব খরখরে তপ্ত রোদে যেমন সবুজ কচি পাতাগুলো কুকড়ে যায় আর হঠাৎ এক দমকা হাওয়ায় ঝড়ে পরে ঠিক তেমনি অকালেই হয়তো ঝরে যাব একদিন! তখন সব নোনা স্মৃতিতে আমাকে স্মরতে এসো না কক্ষনো না - চুপসানো বেলুনের মত কুড়ে খাওয়া স্মৃতিতে আমার অস্পষ্ট মুখ চোখে ভাসবে, খবরদার আমায় ডেকনা নামধরে। ঘুনে ধরা কাঠের মত যখন সর্বগ্রাসী বিষাদ আমার সবটুকু গ্রাস করছিল ভাইরাসের মত তখন কেরোসিন হয়ে এগিয়ে আসনি বলে আমার চিতার আগুনে ঘি ঢালার অধিকারও হারিয়েছ! পরজন্মে হয়তো ফিরে আসব হতে পারে যীশুর মতো প্রত্যাবর্তন অবিশ্বাসী চোখের চাহনী দেখতে চাইনা আর বিশ্বাসের গ্রিডে ধ্বস নামলেও অবিশ্বাসের ছায়া মাড়িওনা অবেলায় ঝড়ে যাওয়ার আগেই মিনতি করছি শোন - কান পাতলেই শুনতে পাবে ধুসর পাতার মর্মর ধ্বনি!