Posts

Showing posts from March, 2014

নষ্ট স্মৃতি

এইযে ডায়েরিটা দেখছ- কত সহজেই তো ছিড়ে ফেলা যায়! কিন্তু ডায়েরির পাতায়-পাতায় লাইনে-লাইনে যে আবেগ, যে হাসি-কান্না লেপ্টে আছে, ওগুলো? কাগুজে পাতা ছিড়ে ফেলা যায় বৃষ্টির পানিতে ভিজে যেতে পারে, হতে পারে তেলাপোকার খাদ্য মিশে যেতে পারে মাটিতেও কিন্তু ডায়েরির প্রতিটা স্মৃতি? দু'বছরের প্রতিদিনের ঘন্টা -মিনিট? প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেবগুলো?? ওগুলো তো ইরেজারে মুছবে না, ফ্লুইড লাগালেই ঘুচবে না, গলবে না, পচবে না, নষ্ট হবে না। বরং প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে খোঁচাবে, স্মৃতির প্রতিটা আঁচড় আমায় ভোগাবে, ওগুলো বেচে থাকবে! ডায়েরিটা পুড়িয়ে ফেললেও স্মৃতিগুলো টিকে থাকবে। ঐতিহাসিকের গবেষণার বিষয় না হলেও ওগুলো বেঁচে থাকবে আমার হৃদয়পটে। ডায়েরিটা তো কত সহযেই নষ্ট করা যায়; কিন্তু স্মৃতিগুলো??

একজন এইচএসসি পরিক্ষার্থীর কিছু অপ্রকাশিত কথা

হ্যা, আমি ১৪ ব্যাচের একজন পরিক্ষার্থী।আর দশজন সাধারণ ছাত্রের মত আমার বইয়েও ধুলোর স্তর জমেছিল, দু বছর খোলা হয়নি বলে। লাইব্রেরীর তাকের ননীচের বইয়ের মত- ঝেড়ে ফুকে নতুন বলে বিক্রি ককরা যযাবে ওগুলো। অনেক বই তো কিনিই নি। মার্চ থেকে বইগুলো যা একটু আমার নিশ্বাসের ছোয়া পায়! এইতো সেদিন তপন স্যারের ফিজিক্স ফার্স্ট পেপার আর সেকেন্ড পেপার নিয়ে আসলাম,তাও নীলক্ষেত থেকে। বইমেলা শেষ হওয়ার পর খেয়াল করলাম বই নেই। বাবার কাছে তো এখন বই কেনার টাকাও চাওয়া যায়না। তাই নীলক্ষেত ই ভরসা। এখনও বোটানি বই কেনা বাকি। এতদিন এরটা-ওরটা-লাইব্রেরীরটা দিয়েই চলে গেছে। তাই বইগুলো কেনা হয়নি। অনেকে হয়ত বিশ্বাস করতে চাবেন না, কিন্তু আমার কাছের বন্ধুরা জানে ব্যাপারটা কতটা সত্যি। সে কথা যাক। ফার্স্ট ইয়ারে কিছুদিন পড়েছিলাম। ফার্স্ট টার্মের আগে। টার্মের পর বাতাস লাগল গায়ে -সেই বিখ্যাত বয়সের বাতাস! সাথে শাহবাগ আন্দোলন তো আছেই। পড়াশোনা সেই যে শিকেয় তুললাম আর নামানো হয়নি।মার্চ থেকে যা শুরু করেছি সেটা আর যাই হোক, ইন্টারের পড়াশোনা তো নয় ঈ! ও, মাঝে সাভার ড্রাজেডি, লংমার্চ, ট্যুর ইত্যাদি ইত্যাদি তো ছিলই। ভাল কথায় সময়ের প্রয়োজনে -খারাপ কথা...

অনুকাব্য- ছবিতা

জোছনা-আকাশ মেঘলা-রাতের সুখস্মৃতি সব তোমার থাক; হৃদয়গলে, কষ্টগুলো বৃষ্টি হয়ে তর্জনী আর বৃদ্ধাকাশে মুক্তি পাক।

ছোটলোকের ভালবাসা

ব্যস্ত শহর ঢাকার সবচে' কর্মব্যস্ত এলাকা মতিঝিল। বিশেষত কমলাপুর স্টেশন থেকে আরমবাগ মোড় হয়ে শাপলা চত্বর - এরাস্তাটায় সারাক্ষণ ভীড় থাকেই। একে বাণিজ্যিক এলাকা তার উপর সারাদেশ থেকে আসা স্টেশনের মানুষের ভীড়, সাথে বেশ কয়েকটা স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী তো আছেই। রাস্তার সাথে সাথে দুপাশের ফুটপাতেও পথচারীর ভীড় বেশ। এ ব্যস্ত ফুটপাতেই ছোট্ট টং দোকান রাকিবের। ছোটবেলায় এলাকায় বেশকিছুদিন মাদ্রাসায় পড়েছিল রাকিব। তারপর বেশকিছুদিন ভোকেশনালে। সেখান থেকেই এসএসসি পাশ করে সে। এরপর ঢাকায় আসে বাবার সাথে। বাবা সবজির ব্যবসা করে আর সে এই টং দোকানে চা বেচে। একসারিতে পাচ-ছটা টং। অন্যদের চেয়ে রাকিবের দোকানেই ভীড় বেশি। বয়সে তরুণ হওয়ায় স্কুল-কলেজের ছাত্রদের সাথে অনেকটাই সহজ সম্পর্ক ওর। কলেজের ছেলেপুলে আড্ডা দেয় ওর টং এ চায়ের কাপ কিংবা সিগারেট হাতে। বিশেষত বিকালের দিকে আড্ডাটা জমে বেশ। চা-সিগারেট বিক্রিতে ব্যস্ত থাকলেও মাঝে মাঝেই আড্ডায় যোগ দেয় রাকিব, সে নিরব শ্রোতা। বাজারে আসা নতুন মোবাইল, ক্লাস বাংক, বাপের পকেট থেকে টাকা মারা এসবই আড্ডার বিষয়বস্তু। মাঝেমধ্যে স্কুল-কলেজ ফেরত মেয়েদের মেয়েদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করত: ...

অনুকাব্য- রবিবারী হাট

কোন এক শীতে মদির জোছনারাতে খুলে দেব জানালার কপাট। কনকনে ঠান্ডায় মাঝরাতে দুজনায় জুড়ে দেব স্বপ্নের রবিবারী হাট।