Posts

Showing posts from April, 2014

সার্থক মৃত্যু

অমৃতসুধা পান করব- জন্ম-জন্মান্তরের সাধ আমার। খুঁজে-খুঁজে মরেছি অকালে, জেগেও উঠেছি বারবার। পাইনি সে সুধার খোজ, অমরও হইনি বারবার বিভৎস মৃত্যু হানা দিয়েছে পথে তবুও নবজন্মে পথ ভেঙেছি আবছায়া ঐ মরীচিকারই পিছে। বিরতিহীন একটা জীবন চেয়েছিলাম পৃথিবীর প্রতিটা কোণায় ঢু মারব বলে, অথচ অজান্তে জীবনের বাঁকে-বাঁকে চোখ বুলানো হয়ে গেছে সর্বত্র। ব্যার্থ তো গেল কয়েক জনম- এবার একটা সার্থক মৃত্যু হোক!

বাংলা অব্দের কথা

এসো হে বৈশাখ , এসো এসো ... যে বাংলাসালের নতুন বর্ষ কাল বরণ করে নেব চলুন সংক্ষেপে তার সম্পর্কে কিছু জেনে আসি .. প্রথমেই উৎপত্তির কথায় আসা যাক। মুঘল সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সাল ( ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৯৬৩ হিজরী ) থেকে বাংলা সাল গণনার শুরু। মূলত সেসময় চন্দ্রমাসে সাল গণনায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ায় সৌরমাসের হিসাবে একটি সাল গণনার জন্য বাদশাহকে অনুরোধ করা হয়। তার প্রেক্ষিতেই বাংলা সালের সুচনা। কথা হল ২০১৪ - ১৫৫৬ = ৪৯৮। যেহেতু আকবর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে আরোহণ ককরেন এবং সে বছর হতেই বাংলা সাল গণনার শুরু এবং এ বিষয়ে ঐতিহাসিকগণ পুরোপুরি একমত , তাহলে প্রশ্ন আসে যে ৪৯৮ বছরে কিভাবে বাংলা সাল ১৪২১ ( আগামী কালের হিসাবে ) হল ! আবার আকবরিয় তথা বাংলা সাল সৌর বছর , মানে ৩৬৫ দিনে বছর। তাহলে ফাকটা কোথায় ? আসল কথা হল , যে বছর বাংলা সাল গণনা শুরু হয় সেটা ছিল ৯৬৩ হিজরী। তো আকবরিয় সালে করা হল কি , ৯৬৩ থেকেই সাল গণনা শুরু করা হল হিজরী সালের সাথে মিলিয়ে। এখন প্রশ্ন তাহলে...

আনমনে

হঠাত ঘুম ভেঙে গেল নাহিয়ানের। মাথা ঝিমঝিম করছে - ভ্যাপসা গরম রুমে। ফ্যান বন্ধ, তারমানে কারেন্ট নেই। মোবাইলের স্ক্রিন অন করে পিটপিট চোখে সময় দেখে, সাড়ে চারটা বাজে মাত্র। মোটে দু ঘন্টা ঘুমিয়েছে তাহলে। এই ভ্যাপসা গরমে আর ঘুম আসবে না। চোখে পানির ঝাপটা দিয়ে বেলকুনিতে গিয়ে দাড়ায় নাহিয়ান। বেশ বাতাস বাইরে। কানে হেডফোন লাগিয়ে অর্থহীনের আনমনে ২ প্লে করে ফেসবুকে ঢুকল ও। ১৭ টা নোটিফিকেশন। যে কাজটা কখনও করেনা সেটাই করল। একবারে চোখ বুলিয়ে নিল নোটিফিকেশনগুলোয়। লাস্ট স্ট্যাটাসটায় কয়েকজন কমেন্ট করেছে। রিপ্লাই দেওয়ার কোন ইচ্ছা বা আগ্রহ দেখা গেলনা। অথচ সবসময় খুটেখুটে সবার কমেন্ট পড়ে রিপ্লাই দেয় নাহিয়ান।

হাহাকার

মাঝরাতের নিস্তব্ধ নিরবতা ভেঙে চৌরাস্তার গোল চত্বরে দাঁড়িয়ে বুক ফাটিয়ে চিতকার করে বলতে চাই- শান্তি দে বিধাতা; দু ফোঁটা অশ্রু দে। ভোগবিলাসী অস্থিরতার রোদে ফেটে চৌচির অন্তরাত্মা। হাজার ফিট শোকের গভীরতায়ও শুধুই হাহাকার, নেই; পানি নেই!!

বেখেয়ালে

আনমনে, তুলির আচড়ে কলমের খোচায়, কিপ্যাডে ক্যানভাস-খাতায়-ভার্চুয়ালে বিক্ষিপ্ত চিন্তারা রুপ পায় আকাঙ্ক্ষারা মুর্ত হয়ে ওঠে ক্ষোভ নিয়ে, আনন্দ বিকিয়ে। গুনগুনিয়ে চেনাসুর ভুলভাল আংশিক লিরিকে, আশা-নিরাশা প্রাণ পায় কান্নাগুলো ঝরে অঝোরে। বেখেয়ালে।

ছাই রঙের পাঞ্জাবি

তুই কি জানিস ছাই রঙা পাঞ্জাবিটা আমি এখনও ধুই নি, একবারও না! তোর চোখের কাজল লেপ্টে আছে বলে। শেষবার কেঁদেছিলি সেদিন; হ্যা, শেষবার-ই তো। কথা দিয়েছিস কাঁদবি না আর, আমিও বলেছিলাম; স্যরি রে, আমি পারিনি। জানি, তুই কথা রেখেছিস। জানিস, জন্মদিনে যে ঘড়িটা দিয়েছিলি ২৪ ঘন্টা হাতে থাকে আমার। ওটায় মিশে আছিস তুই, তোর ভুলোমনা ছোঁয়া। বন্ধুরা কতবার বলল- ওটা বদলে ফেল। অথচ আমি এখনো ব্যাটারিই বদলাইনি। ঘড়িতে কি আর সময় দেখি আমি? সেটাই বা ওরা বুঝবে ক্যাম্নে বল? আচ্ছা, সেদিন যদি কাঁদবিই তবে চোখে কাজল দিয়েছিলি কেন? চোখের জলে লেপ্টে যাওয়া কাজলটুকু পাঞ্জাবিটায় মোঁছার ছলে কেন ক্ষণে কেঁপে উঠেছিলি?