Posts

Showing posts with the label Book Review

Film: Beyond the Blackboard(2011)

Image
  প্রাইমারি স্কুলে থাকতে আমাদের কাছে ‘হেডস্যার’ ছিলেন মোটামুটি গ্রিক মাইথলজির চরিত্রের মতন। হেডস্যার মানেই থমথম অবস্থা। শ্রদ্ধাতো করতামই, ভয় পাইতাম তারো বেশি। তো ‘স্যার’ শব্দটাই ভয়ের প্রতিশব্দ হয়ে উঠছিল একরকম। স্যারদের থেকে তাই একটু দূরে-দূরেই থাকতাম। স্কুলে আমাদের কাছের মানুষ ছিলেন আপারা। ছিলেন আমাদের পরম আশ্রয়ের জায়গা। যেকোন সমস্যা এমনকি অসম্ভব মার্কা আবদার নিয়াও স্বচ্ছন্দে আপাদের কাছে যায়া বলতে পারতাম; একেবারে নির্ভয়ে। তো হাইস্কুলে উঠে আপারা আর আপা থাকলেন না। ‘ম্যাডাম’ বা ‘মিস’ হয়া উঠলেন। ‘আপা’ ডাকটা ছিল আপন আপন। তার তুলনায় ম্যাডাম বা মিস অনেক দূরের মানুষ মনে হইত। এই ডাক বদলের সাথে সাথে বদলায়া গেল সেই পরম আশ্রয় আর নির্ভরতার জায়গাটাও। ধীরে ধীরে আমরাও বড় হইতে থাকলাম, আত্মনির্ভরশীলতাও বাইড়া গেল। আজকাল কোথাও আর ‘আপারা’ নাই। স্কুল্গুলা বদলায়া গেছে। বিল্ডিং বদলায়া গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাইরের মত ফাউল ব্যাপারটাও উঠে গেছে। কিন্তু ‘টিচার’ বা ‘মিস’-রা আমাদের আপাদের মতন কাছের মানুষ হইতে পারতেছেন কিনা জানিনা। যাইহোক, এমনই এক আপার বাস্তব জীবনের গল্প নিয়া সিনেমা আছে একটা; Beyond the...

রিভিউঃ পরিবর্তনে অপরিবর্তনীয় - মুজতবা আলী

Image
View on Goodreads ফরাসীতে একটা প্রবাদ আছে - 'প্লু সা শ্লাজ, প্লু সে লা ম্যাম শোজ' অর্থ্যাৎ যতই সে নিজেকে বদলায়, ততই তার মূল রুপ একই থাকে। মুজতবা আলী এরই বাংলা করেছেন 'পরিবর্তনে অপরিবর্তনীয়'। স্বাধীনতার পর মুজতবা আলী বাংলাদেশে চলে আসেন। সেই সময়েই সামরিক ক্যু'র মাধ্যমে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রি দাউদ খান। একে ঘিরেই লেখকের দৃষ্টিতে তৎকালীন বিশ্বের চার পরাশক্তি রাশিয়া, আমেরিকা, চীন আর জায়োনিজমের আধিপত্যবাদী পক্ষ-বিপক্ষ গ্রহণের বয়ান দিয়েছেন আলী সাহেব। প্রসঙ্গক্রমে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিকসনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ঘরের-বাইরের গল্প। সাথে তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পনের বছর বয়সে জার্মানি থেকে আমেরিকা প্রবাসী হাইনরিষ কিসিঙ্গার তথা হেনরি কিসিঞ্জারের গল্প। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যার কাছে ছিল পাকিস্তানের ঘরোয়া ব্যাপার, অন্য দেশের ঘরোয়া বিষয় তার কাছে কেন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে তার বিশ্লেষণের প্রয়াস পেয়েছেন লেখক। আফগানিস্তানের ক্ষমতার পালাবদল সূত্রে পাকিস্তানের ভুট্টো আর ইরানের শাহের প্রসঙ...

রিভিউঃ অবিশ্বাস্য- সৈয়দ মুজতবা আলী

Image
View on Goodreads আইরিশম্যান ডেভিড ওরেলি পুববঙ্গের নৈসর্গিক শহর মধুগঞ্জে এলেন এএসপি হয়ে। অল্প সময়েই শহরের নেটিভ-সাহেব সবার মন দখল করে নিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল-বকবকানি প্রবণ এই তরুণ। নেটিভদের নৌকা বাইচ থেকে সাহেব-সুবার ক্লাব সর্বত্রই তার গুনমুগ্ধজনের মুখে তার সুনাম। শহরের বেবাক কিশোরি-তরুণির আরাধ্য ওরেলি ইংলান্ড থেকে তার বাগদত্তা মেবল কে বিয়ে করে মধুগঞ্জে ফেরার পরই সবকিছু কেমন বদলে গেল। ও-রেলি দম্পত্তি কেমন যেন সামাজিক সংপর্শ এড়িয়ে চলে। তাদের নিয়ে নানান কানাঘুষা শোনা গেল কিছু। সৃষ্টির শুরু থেকে ভালো-মন্দের, আহুরা মাজদা-আহুরা মনের যে দ্বন্দ্ব আর এই দ্বন্দ্বে দ্বিধান্বিত মানব মনের টানাপোড়নের উপাখ্যান সৈয়দ মুজতবা আলীর 'অবিশ্বাস্য' উপন্যাস। নানান জাতি-ধর্ম বিষয়ে সুপণ্ডিত আলী সাহেব তার মানব মনের গহীন অজানা থেকে আবেগ-অনুভূতিকে নিপূনভাবে ছেঁকে তোলার পারদর্শীতায় মানব মনের অন্তর্দ্বন্দ্বকে শব্দে ধরেছেন অসামান্য দক্ষতায়। উপন্যাসের শেষে ওরেলি তার এপিটাফে খোদাই করে দেবার জন্য সহকর্মী সোমকে যে দুটি কবিতা থে...

রিভিউঃ কত না অশ্রুজল - সৈয়দ মুজতবা আলী

Image
View on Goodreads মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য যোগাযোগে ভাষার ব্যবহার। সমসাময়িক অন্যান্যদের সাথে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তার আবেগ-অনুভূতি-অভিজ্ঞতার কথা জানাতে সে অক্ষরে লেখে তার মনের কথা। তবে মানুষ চিঠি লিখে দূরান্তে থাকা তার একান্ত প্রিয়জন, আপনজনের কাছে; নিতান্তই তার মনের কথা। আর নিশ্চিত মৃত্যু জেনে আপনজনের কাছে লেখা শেষ চিঠিতে মানুষ লিখে তার সব না বলা কথা, রোমন্থন করে তার প্রিয়তম স্মৃতি, পরোক্ষে বিদায় নেয় জীবনের তরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হয় কয়েক কোটি মানুষ। এই যুদ্ধে আহত-নিহত সৈনিক-সাধারণের এবং কনসান্ট্রেশন ক্যাম্পে ভয়ঙ্কর-নিশ্চিত মৃত্যুর আগে প্রিয়জনের কাছে লিখিত সেই সময়ের অনেকগুলো চিঠি নিয়েই সৈয়দ মুজতবা আলীর কত না অশ্রুজল । জীবনের প্রতি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা-আকুতির নিপাট নিদর্শন এই চিঠিগুলোর বেশিরভাগই Die Stimme des Menschen. Briefe und Aufzeichnungen aus der ganzen Welt নামক চিঠি সংকলন থেকে অনুবাদকৃত। হিলডে নাম্নী এক যুবতীর কনসান্ট্রেশন ক্যাম্পে মৃত্যুর আগে তার মায়ের কাছে লেখা চিঠি আছে এতে। স্বামীসহ গ্রেফতার হয় সে। ক্যাম্পে স্বামীর মৃত্যু হয়ে গ্যাছে ততদিনে। এই ক্যাম্পেই জন্ম নেও...

'অগ্নি' মুভি রিভিউ

মোটামুটি বিনা প্লানেই অগ্নি দেখে আসলাম। সামনে পরিক্ষা,একই সাথে মাসের শেষ - এসময় মুভি দেখার প্রশ্নই আসে না,অন্তত সিনেমা হলে গিয়ে। এক ফ্রেন্ড ফোন দিয়ে বলল মুভি দেখব কিনা। টাকা নাই বলায় ঝাড়ি খাইলাম সেই লেভেলের। অগ্নির কথা এম্নিই অনেক শুনছি, দেখার প্রবল আগ্রহ ছিল। এমন সুযোগ মিস করার প্রশ্নই ওঠেনা। সো,মহাখালী থেকে সোজা পান্থপথ :) অগ্নির একটা পোস্টারে মাহির সাদাকালো ছবি দেখে আগেই ফিদা! আজকে তো পুরা মাহির ফ্যান হয়ে গেলাম! তানিশা/ অগ্নি মুভির কেন্দীয় চরিত্র। যার বাবা মাকে বাবার পার্টনারেরা ছোটবেলায় মেরে ফেলে - তানিশার সামনেই। পালিয়ে যায় তানিশা - আশ্রয় নেয় তার মামা, এলাকার মাস্তান মার্শাল এর কাছে। মার্শালের কাছেই সে অস্ত্রচালনা শেখে, হয়ে ওঠে কিলার গার্ল অগ্নি! শুরু হয় অগ্নির একশান। বাবার এক খুনিকে হত্যা করে তার মোবাইল নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের পুরো চক্রের খোজ পায় সে। ছুটে যায় থাইল্যান্ড। সেখানেই আছে তার বাবার অন্য চার খুনি। শুরু হয় তার মিশন। সেখানেই দেখা হয় খুনির বডিগার্ড ড্রাগনের সাথে। ড্রাগনেরই মামার বাসায় সাবলেট নেয় অগ্নি। একে একে হত্যা করে বাবার খুনিদের - বিভিন্ন কৌশলে। এদিকে তার মামাকে মে...