Film: Beyond the Blackboard(2011)
প্রাইমারি স্কুলে থাকতে আমাদের কাছে ‘হেডস্যার’ ছিলেন মোটামুটি গ্রিক মাইথলজির চরিত্রের মতন। হেডস্যার মানেই থমথম অবস্থা। শ্রদ্ধাতো করতামই, ভয় পাইতাম তারো বেশি। তো ‘স্যার’ শব্দটাই ভয়ের প্রতিশব্দ হয়ে উঠছিল একরকম। স্যারদের থেকে তাই একটু দূরে-দূরেই থাকতাম। স্কুলে আমাদের কাছের মানুষ ছিলেন আপারা। ছিলেন আমাদের পরম আশ্রয়ের জায়গা। যেকোন সমস্যা এমনকি অসম্ভব মার্কা আবদার নিয়াও স্বচ্ছন্দে আপাদের কাছে যায়া বলতে পারতাম; একেবারে নির্ভয়ে। তো হাইস্কুলে উঠে আপারা আর আপা থাকলেন না। ‘ম্যাডাম’ বা ‘মিস’ হয়া উঠলেন। ‘আপা’ ডাকটা ছিল আপন আপন। তার তুলনায় ম্যাডাম বা মিস অনেক দূরের মানুষ মনে হইত। এই ডাক বদলের সাথে সাথে বদলায়া গেল সেই পরম আশ্রয় আর নির্ভরতার জায়গাটাও। ধীরে ধীরে আমরাও বড় হইতে থাকলাম, আত্মনির্ভরশীলতাও বাইড়া গেল। আজকাল কোথাও আর ‘আপারা’ নাই। স্কুল্গুলা বদলায়া গেছে। বিল্ডিং বদলায়া গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাইরের মত ফাউল ব্যাপারটাও উঠে গেছে। কিন্তু ‘টিচার’ বা ‘মিস’-রা আমাদের আপাদের মতন কাছের মানুষ হইতে পারতেছেন কিনা জানিনা।
যাইহোক, এমনই এক আপার বাস্তব জীবনের গল্প নিয়া সিনেমা আছে একটা; Beyond the Blackboard. আমেরিকায় গৃহহীন শিশুদের জন্য স্কুলের দরজা তখনো বন্ধ। বাস্তুহীন মানুষজনের আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুদের জন্য একটা প্রজেক্ট নেওয়া হইছিল। পরিত্যাক্ত একটা জায়গায় তাদের আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যেই একটা রুমে একটা স্কুল, সেই স্কুলের নামও নেই কোন। কেও এই স্কুলে শিক্ষকতা করা তো দূরে থাক, আসতেও চায়না। তো ছোট থেকে শিক্ষক হইতে চাওয়া স্টেসি বেস জীবনের প্রথম কর্মদিবস শুরু করলেন এই নামহীন স্কুলে। আইসা বনে গেলেন আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুদের ‘আপা’। শিক্ষক যে কখনো কখনো মা-বাবার থেকেও আপন হয়ে ওঠেন – এই অনুভূতিটা আরেকবার অনুভব করতে হইলে স্টেসি বেসের গল্পটা দেখতে পারেন।
আমাদের দেশে আশ্রয়হীন শিশুর প্রকৃত হিসাব আমার জানা নাই। শুধু জানি যে পরিবারে বাস করেও মানসিকভাবে আশ্রয়হীন আরো অসংখ্য শিশু। এদের সবার জন্য স্টেসি বেস-রা আগায়া আসবে, দেখাবে নয়া ভবিষ্যতের স্বপ্ন; আপাতত এই স্বপ্নই দেখি।

Comments
Post a Comment