'অগ্নি' মুভি রিভিউ
মোটামুটি বিনা প্লানেই অগ্নি দেখে আসলাম। সামনে পরিক্ষা,একই সাথে মাসের শেষ - এসময় মুভি দেখার প্রশ্নই আসে না,অন্তত সিনেমা হলে গিয়ে। এক ফ্রেন্ড ফোন দিয়ে বলল মুভি দেখব কিনা। টাকা নাই বলায় ঝাড়ি খাইলাম সেই লেভেলের। অগ্নির কথা এম্নিই অনেক শুনছি, দেখার প্রবল আগ্রহ ছিল। এমন সুযোগ মিস করার প্রশ্নই ওঠেনা। সো,মহাখালী থেকে সোজা পান্থপথ :)
অগ্নির একটা পোস্টারে মাহির সাদাকালো ছবি দেখে আগেই ফিদা! আজকে তো পুরা মাহির ফ্যান হয়ে গেলাম!তানিশা/ অগ্নি মুভির কেন্দীয় চরিত্র। যার বাবা মাকে বাবার পার্টনারেরা ছোটবেলায় মেরে ফেলে - তানিশার সামনেই। পালিয়ে যায় তানিশা - আশ্রয় নেয় তার মামা, এলাকার মাস্তান মার্শাল এর কাছে। মার্শালের কাছেই সে অস্ত্রচালনা শেখে, হয়ে ওঠে কিলার গার্ল অগ্নি!
শুরু হয় অগ্নির একশান। বাবার এক খুনিকে হত্যা করে তার মোবাইল নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের পুরো চক্রের খোজ পায় সে। ছুটে যায় থাইল্যান্ড। সেখানেই আছে তার বাবার অন্য চার খুনি। শুরু হয় তার মিশন। সেখানেই দেখা হয় খুনির বডিগার্ড ড্রাগনের সাথে। ড্রাগনেরই মামার বাসায় সাবলেট নেয় অগ্নি। একে একে হত্যা করে বাবার খুনিদের - বিভিন্ন কৌশলে। এদিকে তার মামাকে মেরে ফেলে খুনিরা। একপর্যায়ে ড্রাগনকে সন্দেহ করে খুনি, মেরে ফেলে ড্রাগনের মামা-মামিকে। তার আগেই ড্রাগনের চোখে ধরা পরে যায় অগ্নি। সব খুলে বলে সে ড্রাগন তথা আরেফিন শুভকে। ড্রাগন অগ্নিকে হেল্প করতে চায় - কারণ সে অগ্নিকে ভালবাসে। অগ্নি তার সাহায্য নিতে অস্বীকার করে। কিন্তু মামা-মামিকে মেরে ফেলায় ড্রাগন নিজেও খুনিদের বিরুদ্ধে লাগে। দুজনে মিলে হত্যা করে চক্রের হোতা আইনাল ও তার পার্টনার কে।
অভিনয়ের কথা বলতে গেলে মাহিয়া মাহি তো অলরাউন্ডার! কি পারেনা মেয়ে! বাইক চালানো থেকে শুরু করে সব! অভিনয় অসাধারণ ছিল। আমিতো ফ্যান বনে গেছি ওর! আর আরেফিন শুভ এই প্রথম কোথাও ভাল অভিনয় করেছে। বেচারি এতদিন শুধু অপবাদই শুনে এসেছে যে সে অভিনয় নয় হাইটের কারণে চান্স পেয়েছে মিডিয়ায়।এবার হয়ত সিরিয়াস ছিল। একটা স্ট্যান্ট করতে গিয়ে নাকি গুরুতর আহতও হয়েছিল বেচারা! :)
তবে মিউজিক সিলেকশন খুব একটা ভাল হয়নি। প্লটও সাধারণ,থ্রিলার বলে কোনভাবে চালানো যায় আরকি।
থাইল্যান্ডে নাকি দুমাস ধরে শ্যুটিং হয়েছে। সর্বমোট ২৮০ টা স্পেশাল এফেক্ট দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। গ্রাফিক্স, কোরিওগ্রাফি সব মিলিয়ে বেশ ভাল লেগেছে মুভিটা।
বাংলা মুভির যে উন্নতি হচ্ছে দিনদিন - মানতেই হবে সেটা,এবং উন্নতির হার ভালই। সময় এসেছে, আমাদের আর হয়ত বিদেশী ভিন্ন ভাষার মুভির উপর নির্ভর করতে হবেনা।
যারা দেখেছেন তারাতো দেখছেন ই। আরা যারা দেখেননি অন্তত একবার হলে গিয়ে দেখে আসবেন।
বাসায় ডাউনলোড না করে বা সিডি না কিনে হলে গিয়ে মুভি দেখুন, প্রযোজকরা বড় বাজেটের ছবি করতে সাহস পাবে - আমাদের মুভির মান আরো বাড়বে- সমৃদ্ধ হবে আমাদের ঢালিউড :)
হলে গিয়ে মুভিটা দেখে আসুন। আমি ফ্রিতে দেখলেও গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার টাকাটা বৃথা যাবেনা :p
Comments
Post a Comment