পিকেটার
বরাবরের মত আজ সন্ধ্যায় বেড়িয়েছিলাম শহর পরিভ্রমনে। মা প্রতি হরতালের আগের রাতে এবং হরতালের দিন সকালে ফোন করে বের হতে নিষেধ করে দেন। কোথায় কখন কি ঘটছে সে আপডেট ও পাই উনার কাছেই। সারাদিন বাধ্য ছেলের মত বের না হলেও সন্ধ্যায় বের না হয়ে পারলাম না।
হরতালের আগের রাতে ব্যস্ত মানুষের ত্রস্ত মনে ঘরে ফেরা আর হরতালের সন্ধ্যায় খা খা রাজপথে নিয়ন আলোয় হঠাৎ দুএকজনের ভৌতিক ছায়া দেখার লোভ কোনমতেই ছাড়তে পারিনা। হাটছি ফাকা রাস্তায়। হঠাৎ দু একটা বাস জানান দিয়ে যাচ্ছে শহরটা এখনও কোন বিরানভুমি নয়। ফাকা রাস্তায়ও হর্ণ দেয়ার কারণ বোধগম্য হচ্ছেনা। হর্ণের আওয়াজটা নিরবতা খানখান করে দিচ্ছে। আচ্ছা বাসের ড্রাইভাররা কি কোনদিনও বদলাবেনা?
রাস্তার মোড়ে একটা বাদামের দোকান। মাস গেলেই কড়কড়ে কয়েকটা নোট পায়না বলেই পেটের জ্বালায় এদের বাদাম বেচতে হয়, হরতালে দোকান পুড়ার ভয় নিয়েও... যার সাথে যার বিরোধিতা থাকুক - সবার ক্ষোভের বলি হয় এরাই। পেশিশক্তির শো ডাউনে এরাই তো সহজ শিকার। আচ্ছা এরা কি মুখ ফুটে কিছু বলার সুযোগ পাবে কখনও??
বাদামের দোকানের আসেপাশের কয়েকজন পথশিশু ঘোরাঘুরি করছে। এদের কেও কেও হয়ত পিকেটিং করে কটা টাকা আয় করে পেট পুরে একবেলা ভালমন্দ খায়। আচ্ছা এরা পুলিশের ডান্ডাবেড়ী খেলে এর দায় কার??
সবাইতো এদের ইউজ করে। কে ক্ষমতায় এল গেল তাতে এদের কি যায় আসে! কেওকি এদের কথা ভাবে? হ্যা - সবাইতো এদের দিয়েই ....... করায়। এরাতো চিরদিনই পিকেটার ......
অক্টোবর ২৮, ২০১৩
Comments
Post a Comment