আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০১৯ঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ
এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য হলো 'বহু ভাষায় সাক্ষরতা, উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা' (Literacy and Multilingualism)। জাতিসংঘ নির্ধারিত এই প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কতখানি প্রাসঙ্গিক, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বহুভাষায় সাক্ষরতার স্কোপটা কোথায় - এই বিষয়ে আলাপ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৩.৯ শতাংশ(ডেইলি স্টার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। প্রায় সোয়া তিন কোটি মানুষ এখনও নিরক্ষর। সেইসাথে National Student Assessment Report অনুযায়ী প্রাথমিকের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই মাতৃভাষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছেনা। মাতৃভাষায় সার্বিক সাক্ষরতা অর্জন করাটাই এখনো যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই অবস্থায় বর্তমানে বাংলাদেশে বহুভাষায় সাক্ষরতা কি আদৌ বান্তর?
এছাড়াও প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বারোটা বছর বাধ্যতামূলকভাবে কমিউনিকেটিভ ইংরেজি শিক্ষা দেওয়ার পরেও কি শিক্ষার্থীরা চারটি মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে? শিক্ষার মাধ্যম ও এই বারো বছর ইংরেজি শিক্ষা বিষয়ে এই আলাপ অন্য আরেক সময় করা যাবে।
আজকের প্রতিপাদ্যে আসা যাক। আমার মতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বহুভাষায় সাক্ষরতা সবার জন্য মোটেই প্রযোজ্য না। আগে মাতৃভাষায় সার্বিক সাক্ষরতা অর্জনে আমাদের ফোকাস করতে হবে। তবে বহুভাষায় সাক্ষরতার আজকের প্রতিপাদ্যটি একটা ক্ষেত্রে খুবই প্রাসজ্ঞিক। সেটা হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য।
আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বিশাল অংশই আসে প্রবাসীদের সূত্রে। প্রবাসীরা বাইরে যেয়ে যে সমস্যায় পড়েন তার অন্যতম হলো ভাষাগত সমস্যা। এঁদের যে যেই দেশে যাবেন/যেতে ইচ্ছুক- সেই দেশের ভাষা একটা নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত শিখিয়ে-পড়িয়ে পাঠাতে পারলে প্রবাসে তাদের জীবনযাত্রার মান ও আয় যেমন বাড়বে, বাড়বে দেশের রেমিটেন্সও। সেইসাথে প্রবাসগামী ভাইবোনদের অন্যান্য দক্ষতা বিশেষত টেকনিকাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে তাদের দক্ষ মানবশক্তি বা মানবসম্পদ হিসেবে গড়্রে তোলার দিকেও সরকারের মনযোগী হতে হবে।
মোটকথা, এবারের সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্যটি মাথায় রেখে আগামীতে মাতৃভাষায় সার্বিক সাক্ষরতা অর্জনের পাশাপাশি প্রবাসগামী ভাইবোনদের বহুভাষায় সাক্ষরতার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটাবে বলেই মনেকরি।
Comments
Post a Comment