Posts

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বিষয়ক

#অপরাধ_ও_অপরাধী_বিষয়ক আমরা কোন একটা অপরাধের শাস্তি দেই কেন? যাতে সোশাল অর্ডার বজায় থাকে এবং একটা দৃষ্টান্ত তৈরির হয়। যেই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্যদের একই অপরাধ করা থেকে নিবৃত করবে। একটা কথা প্রচলিত আছে যে পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়। একইভাবে কি বলা যাবে যে অপরাধকে ঘৃণা কর, অপরাধীকে নয়? পাপ আর অপরাধের মধ্যে যদিও ফারাক আছে। অপরাধের শাস্তি অপরাধীকে দেওয়া হয় তো অপরাধকে ঘৃণা করেই, অপরাধ যেন না হয় সেজন্যেই। পরবর্তী প্রশ্ন আসে আমরা অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট করব কিনা, করলেও সব অপরাধের ক্ষেত্রেই করব কিনা। নাকি অপরাধীকে সামাজিকভাবে শোধনের চেষ্টা করব, সামাজিক পুনর্বাসন করব? এটাও কি সব অপরাধের ক্ষেত্রে করব? আবার একজন অপরাধী কি শুধু একটি নির্দিষ্ট অপরাধ করেন? পরোক্ষভাবে তিনি কি তার কমিউনিটকে ডিফেইম করেন না? একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। বর্তমানে আলোচিত একটি বিষয় হল যৌন হয়রানি। একজন শিক্ষক যদি যৌন হয়রানি করেন তবে সেটা কি পুরো শিক্ষকসমাজের ইমেজের জন্যই ক্ষতিকর নয়? তিনি কি শিক্ষক সমাজের মানহানি করেন না? এক্ষেত্রে তাকে কি আমরা সামাজিকভাবে বয়কট করব? নাকি পুনর্বাসন করব? সোশাল অর্ডারের জন্য কোনটা জরুরি? ভবিষ্যতে ...

অধিভুক্তি বাতিল আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং বিষয়ে

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বিল্ডিং এর ডিজিটালাইজেশন নিয়া কথা বলা জরুরী। বর্তমান অবস্থায় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেবা(!) দিতে হিমশিম খায়, তার ওপর অধিভুক্ত কলেজের বাড়তি চাপ! বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা নম্বরপত্র তুলতে কত জায়গায় কতবার যেতে হয় এর একটা ডায়াগ্রাম করা গেলে সেটা ক্যামিস্ট্রির কঠিন সব বিক্রিয়ার প্রসিডিওরের চেয়েও কঠিনতর হবে নিঃসন্দেহে। চলমান আন্দোলন থেকে প্রতীয়মান যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরণের এলিটিজমের চর্চা বিদ্যমান- যেটা বিশ ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরবর্তী জ্ঞান-দক্ষতার ভিত্তিতে নয় বরং ভর্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিশ্ববিদ্যালয়ের লগো আছে মানেই ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্ট! অবশ্যই ঢাকা বিশ্যবিদ্যালয় একটা ব্র্যান্ড। কিন্তু এই ব্র্যাডের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর ব্যাপারে আন্দোলন হয়না, প্রোডাক্ট কোয়ালিটি নিয়ে আন্দোলন হয়না - এইটা দুঃখের ব্যাপার। ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্টরা ক্যাম্নে থাকে, খায়, ঘুমায়, পড়াশোনা করে এইটা নিয়া আন্দোলন হয়না। আন্দোলন যখন ব্র্যান্ড নিয়াই শুরু হইছে তাহইলে ব্র্যান্ডের মানোন্নয়ন নিয়াও আলোচনা...

কিছু একটা (দেখক)

গলির মোড়ে মতি মিয়ার সিডির দোকানের সাইনবোর্ডটা বদলে ফেলা হয়েছে। 'ঝুমা ভিডিও' লেখা মরচে পরা স্টীলের পাতের সাইনবোর্ডের জায়গায় এখন 'ভিশন কম্পিউটার' এর ঝক ঝকে ডিজিটাল সাইনবোর্ড। ঝুমা মতি মিয়ার বড় মেয়ে - বাপের বাড়ি ছেড়েছে বহুদিন আগে। দুই ছেলের মা এখন। ঝুমার বিয়ের পরেই মতি মিয়ার সিডির ব্যবসা ডাউন খাওয়া শুরু করে। ত্রিশ টাকার ছবির সিডি কিনে কেও তখন ছবি দেখত না। এক ছবি একবার দেখলেই তো শেষ। তারচেয়ে মতি মিয়ার দোকান থেকে দশ টাকায় সিডি ভাড়া নিয়ে দেখলেই হয়ে গেল! বেশ চলছিল 'ঝুমা ভিডিও'র ব্যবসা। এলাকার কমিশনারও পান চিবুতে চিবুতে এসে বলত 'একখান ভাল দেখে সিডি দেও দেখি মিয়া - ঘরের লোক নিয়া দেখন যায় এইরাম একখান সামাজিক ছবি দিও। বোঝই তো যা দিনকাল চলছে! ঘরের লোকজন নিয়া শান্তিমত একখান ছবি দেখুম তাও হয়না - যত্তসব অশ্লীল নাচ গান আর ছোট পোশাকের ছড়াছড়ি! দেশটা যে কই যাচ্ছে না...' সেই জমজমাট সিডির ব্যবসায় হালকা চাপ পড়ল ঐ কমিশনারের ছোট ভাইয়ের ডিশ আনার পর। লোকজন মাসিক একশ' টাকা বিলে ডিশের লাইন নেয়া শুরু করল। সিডি চ্যানেলে প্রতিদিন দুইটা করে নতুন ছবি দেখায় কিনা! সাথে ...

বিষক্ষয় তথা আইইআর বিশতম ব্যাচের র‍্যাগ ডে

Image
সারাদিন স্টেজ কাঁপিয়ে সন্ধ্যায় মল চত্বরে ফায়ার ব্রিদিং, আতসবাজি আর ফানুশবাজি। # বিষক্ষয় মানে আইইআর বিশ ব্যাচের র‍্যাগ ডে'র কথাই বলছি। সেই ভর্তির পরপর কাদেরে এক সিনয়রের থেকে শুনেছিলাম পরপর দুই ব্যাচে নাকি তেমন হয়না। সে ভাই-ব্রাদারি হোক আর ভালোবাসা-বাসিই হোক। আমার বেলায় সেই বড় ভাইয়ের কথার চুড়ান্ত ব্যত্যয় না ঘটলেও প্রথমাংশের ব্যত্যয় ঘটেছে নিশ্চয়ই। ধ্রুপদী সঙ্গীত উৎসব থেকে শুরু করে কনকনে শীতের রাতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে লঞ্চের ছাদে চাঁদপুর ভ্রমণ কিংবা উত্তরের এক শীতের রাতে আগুন পো হাতে পোহাতে বড়ভাইয়ের জন্মদিন উদযাপন - আমার ছোট্ট জীবনের অনেক রঙিন স্মৃতিতেই বিশ ব্যাচ অমলিন। এমনকি কিছুদিন আগে কোন এক কারণে বিশের একজনের সাথে ভুল বোঝাবুঝির পর অন্যরা যেভাবে ডেকে বুঝিয়ে কাছে টেনে নিয়েছেন সেটাও অনুকরণীয় থাকবে। একাডেমিকভাবে সম্মান শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এই সম্পর্কগুলো তো আছে, থাকবে। আপনারা জানেন, আপনারা চাইলেও আমাদের থেকে দূরে যেতে পারবেননা - ব্লুবুকধারী হয়ে পৃথিবীর উল্টো তলে বাস করতে চলে গেলেও না :D Dear all of # IER20 , congratulations on your graduation completion.

আইটি বিপ্লব বনাম সক্ষতা বিকাশ

গার্মেন্টস শ্রমিক আর ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে পার্থক্য এই যে প্রথমোক্তরা শারিরীক শ্রম বিক্রি করেন, শেষোক্তরা মানসিক শ্রম বিক্রি করেন। দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের শ্রমের মূল্য কম বিধায়ই গার্মেন্টস শিল্পে যেমন আমরা এগিয়ে ছিলাম তেমনি ফ্রিল্যান্সিং জগতেও এগিয়ে আছি। শ্রমের ধরণ বদলালেও উৎপাদন সম্পর্ক বদলায়নি মোটেও। এজন্যই গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে যেমন আমাদের শ্রমের বিনিময়ে লাভের নগণ্য একটা অংশমাত্র আমরা পেতাম- ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্ রেও তাই ঘটছে। অনেকে ফ্রিল্যান্সিং এ দেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখেন, দেখছেন। দেশে এর জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা যেমনঃ প্রোগ্রামিং, ইমেইজ প্রসেসিং, ভিডিও প্রসেসিং ইত্যাদি বেকার-যুব-শিক্ষার্থী নির্বিশেষে সবার মধ্যে বিস্তার করার বিস্তর আয়োজন। সরকারও নানা দক্ষতার বিকাশে প্রচুর ফান্ডিং করছে। একশ্রেণির মানুষ ও সংগঠন স্কিল ডেভেলাপমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে ফান্ড। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আইডিয়াবাজ তৈরীতে মনোযোগ না দিয়ে শূধু উপরোক্ত ফ্রিল্যান্সিং স্কিল বিকাশে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকলে দিনশেষে শিল্পবিপ্লবের ফল যেমন আমরা ন...