Posts

রিভিউঃ অবিশ্বাস্য- সৈয়দ মুজতবা আলী

Image
View on Goodreads আইরিশম্যান ডেভিড ওরেলি পুববঙ্গের নৈসর্গিক শহর মধুগঞ্জে এলেন এএসপি হয়ে। অল্প সময়েই শহরের নেটিভ-সাহেব সবার মন দখল করে নিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল-বকবকানি প্রবণ এই তরুণ। নেটিভদের নৌকা বাইচ থেকে সাহেব-সুবার ক্লাব সর্বত্রই তার গুনমুগ্ধজনের মুখে তার সুনাম। শহরের বেবাক কিশোরি-তরুণির আরাধ্য ওরেলি ইংলান্ড থেকে তার বাগদত্তা মেবল কে বিয়ে করে মধুগঞ্জে ফেরার পরই সবকিছু কেমন বদলে গেল। ও-রেলি দম্পত্তি কেমন যেন সামাজিক সংপর্শ এড়িয়ে চলে। তাদের নিয়ে নানান কানাঘুষা শোনা গেল কিছু। সৃষ্টির শুরু থেকে ভালো-মন্দের, আহুরা মাজদা-আহুরা মনের যে দ্বন্দ্ব আর এই দ্বন্দ্বে দ্বিধান্বিত মানব মনের টানাপোড়নের উপাখ্যান সৈয়দ মুজতবা আলীর 'অবিশ্বাস্য' উপন্যাস। নানান জাতি-ধর্ম বিষয়ে সুপণ্ডিত আলী সাহেব তার মানব মনের গহীন অজানা থেকে আবেগ-অনুভূতিকে নিপূনভাবে ছেঁকে তোলার পারদর্শীতায় মানব মনের অন্তর্দ্বন্দ্বকে শব্দে ধরেছেন অসামান্য দক্ষতায়। উপন্যাসের শেষে ওরেলি তার এপিটাফে খোদাই করে দেবার জন্য সহকর্মী সোমকে যে দুটি কবিতা থে...

রিভিউঃ কত না অশ্রুজল - সৈয়দ মুজতবা আলী

Image
View on Goodreads মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য যোগাযোগে ভাষার ব্যবহার। সমসাময়িক অন্যান্যদের সাথে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তার আবেগ-অনুভূতি-অভিজ্ঞতার কথা জানাতে সে অক্ষরে লেখে তার মনের কথা। তবে মানুষ চিঠি লিখে দূরান্তে থাকা তার একান্ত প্রিয়জন, আপনজনের কাছে; নিতান্তই তার মনের কথা। আর নিশ্চিত মৃত্যু জেনে আপনজনের কাছে লেখা শেষ চিঠিতে মানুষ লিখে তার সব না বলা কথা, রোমন্থন করে তার প্রিয়তম স্মৃতি, পরোক্ষে বিদায় নেয় জীবনের তরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হয় কয়েক কোটি মানুষ। এই যুদ্ধে আহত-নিহত সৈনিক-সাধারণের এবং কনসান্ট্রেশন ক্যাম্পে ভয়ঙ্কর-নিশ্চিত মৃত্যুর আগে প্রিয়জনের কাছে লিখিত সেই সময়ের অনেকগুলো চিঠি নিয়েই সৈয়দ মুজতবা আলীর কত না অশ্রুজল । জীবনের প্রতি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা-আকুতির নিপাট নিদর্শন এই চিঠিগুলোর বেশিরভাগই Die Stimme des Menschen. Briefe und Aufzeichnungen aus der ganzen Welt নামক চিঠি সংকলন থেকে অনুবাদকৃত। হিলডে নাম্নী এক যুবতীর কনসান্ট্রেশন ক্যাম্পে মৃত্যুর আগে তার মায়ের কাছে লেখা চিঠি আছে এতে। স্বামীসহ গ্রেফতার হয় সে। ক্যাম্পে স্বামীর মৃত্যু হয়ে গ্যাছে ততদিনে। এই ক্যাম্পেই জন্ম নেও...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বসেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় না থাকা বিষয়ক

টাইমস হায়ার এডুকেশন কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং এর সেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এর কারণ অনুসন্ধানে প্রথমেই র‍্যাংকিং এর মানদণ্ডগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক। টাইমস হায়ার এডুকেশন ৫টি মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল্যায়ন করে এই তালিকা তৈরি করেছে। এগুলো হলো- ক) শিক্ষার পরিবেশ -৩০% খ) গবেষণার সংখ্যা ও সুনাম -৩০% গ) সাইটেশন বা গবেষণার উদ্ধৃতি - ৩০% ঘ) গবেষণা থেকে আয় -২.৫% এবং ঙ) আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতা -৭.৫% বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ তিনটি। জ্ঞান সংরক্ষণ, উৎপাদন ও বিস্তরণ। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রের অতীত ও চলমান আলোচনা-গবেষণা সম্পর্কে জানবে, নিজেরাও গবেষণা কর্মে সংশ্লিষ্ট হয়ে নতুন জ্ঞান উৎপাদনে ব্রতী হবে এবং নিজ ক্ষেত্রের অন্যান্য গবেষক ও সমাজের অন্যান্য মানুষের কাছে এগুলোর বিস্তরণ করবে- এটাই কাঙ্খিত। এর জন্য শিক্ষার্থীদের দিতে হবে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ। র‍্যাংকিএর এর মানদণ্ডগুলোর মধ্যে তাই একে প্রথমেই রাখা হয়েছে। আদতে এই পরিবেশের ওপরই অন্যান্য চারটি বিষয় নির্ভর করে। পরিবেশ পেলে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় উদবুদ...

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০১৯ঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ

এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য হলো 'বহু ভাষায় সাক্ষরতা, উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা' (Literacy and Multilingualism)। জাতিসংঘ নির্ধারিত এই প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কতখানি প্রাসঙ্গিক, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বহুভাষায় সাক্ষরতার স্কোপটা কোথায় - এই বিষয়ে আলাপ প্রয়োজন। বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৩.৯ শতাংশ(ডেইলি স্টার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। প্রায় সোয়া তিন কোটি মানুষ এখনও নিরক্ষর। সেইসাথে National Student Assessment Report অনুযায়ী প্রাথমিকের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই মাতৃভাষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছেনা। মাতৃভাষায় সার্বিক সাক্ষরতা অর্জন করাটাই এখনো যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই অবস্থায় বর্তমানে বাংলাদেশে বহুভাষায় সাক্ষরতা কি আদৌ বান্তর? এছাড়াও প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বারোটা বছর বাধ্যতামূলকভাবে কমিউনিকেটিভ ইংরেজি শিক্ষা দেওয়ার পরেও কি শিক্ষার্থীরা চারটি মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে? শিক্ষার মাধ্যম ও এই বারো বছর ইংরেজি শিক্ষা বিষয়ে এই আলাপ অন্য আরেক সময় করা যাবে। আজকের প্রতিপাদ্যে আসা যাক। আমার মতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বহুভ...

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বিষয়ক

#অপরাধ_ও_অপরাধী_বিষয়ক আমরা কোন একটা অপরাধের শাস্তি দেই কেন? যাতে সোশাল অর্ডার বজায় থাকে এবং একটা দৃষ্টান্ত তৈরির হয়। যেই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্যদের একই অপরাধ করা থেকে নিবৃত করবে। একটা কথা প্রচলিত আছে যে পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়। একইভাবে কি বলা যাবে যে অপরাধকে ঘৃণা কর, অপরাধীকে নয়? পাপ আর অপরাধের মধ্যে যদিও ফারাক আছে। অপরাধের শাস্তি অপরাধীকে দেওয়া হয় তো অপরাধকে ঘৃণা করেই, অপরাধ যেন না হয় সেজন্যেই। পরবর্তী প্রশ্ন আসে আমরা অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট করব কিনা, করলেও সব অপরাধের ক্ষেত্রেই করব কিনা। নাকি অপরাধীকে সামাজিকভাবে শোধনের চেষ্টা করব, সামাজিক পুনর্বাসন করব? এটাও কি সব অপরাধের ক্ষেত্রে করব? আবার একজন অপরাধী কি শুধু একটি নির্দিষ্ট অপরাধ করেন? পরোক্ষভাবে তিনি কি তার কমিউনিটকে ডিফেইম করেন না? একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। বর্তমানে আলোচিত একটি বিষয় হল যৌন হয়রানি। একজন শিক্ষক যদি যৌন হয়রানি করেন তবে সেটা কি পুরো শিক্ষকসমাজের ইমেজের জন্যই ক্ষতিকর নয়? তিনি কি শিক্ষক সমাজের মানহানি করেন না? এক্ষেত্রে তাকে কি আমরা সামাজিকভাবে বয়কট করব? নাকি পুনর্বাসন করব? সোশাল অর্ডারের জন্য কোনটা জরুরি? ভবিষ্যতে ...